
গুপ্তচর প্রতিবেদক:
নরসিংদী কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত চিকিৎসা সহকারী (ডিএন) আফজালুর রহমানের প্রতি প্রশাসনিক হয়রানি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ২০২২ সালে কারাগারে বন্দীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হন।
কারাগারের তৎকালীন জেলার রিজিয়া, জেল সুপার শফিউল আলমসহ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা বন্দীদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, কারাগারের ভেতরে মাদকের অবাধ সরবরাহ নিয়ে আপত্তি তুললে, আফজালুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা রকম হয়রানি শুরু হয়।
সূত্র জানায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংসদ হিরো, পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল, এসএসএফ সদস্য মজিবর, জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় ক্ষমতাশালী মহল একযোগে আফজাল হোসেনকে কারাগার থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি শাসকগোষ্ঠীর চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন। বিএনপির একজন সাবেক ছাত্র নেতা ও দলটির প্রতি আনুগত্য থাকায় তার বিরুদ্ধে একের পর এক বদলির আদেশ আসে, যা মূলত প্রশাসনিক প্রতিহিংসার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
দলীয় আনুগত্য বিসর্জন না দিয়ে বরং ন্যায় ও আদর্শের লড়াই চালিয়ে যান আফজালুর রহমান । বারবার বদলি ও প্রশাসনিক চাপের মুখেও তিনি আপোষ না করে কারাগারের বন্দীদের অধিকার ও সুবিচারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।
এ বিষয়ে আফজালুর রহমান দৈনিক গুপ্তচর কে বলেন, আমার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হওয়া সত্ত্বেও শুধু বিএনপি করার কারণে আমাকে সমতল ভূমি থেকে ৫০০ ফিট উপরে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়। তারা জানতো আমার হার্টে রিং পরানো এবং দোতলার উপরে ওঠা নিষেধ ছিল ডাক্তারের। আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই অন্যায় ভাবে তারা আমাকে বদলি করে। আল্লাহ চাইলে সবার বিচার হবে।
এই অন্যায় ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। জনগণের টাকায় পরিচালিত কারাগার যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।
Leave a Reply