বিশেষ প্রতিবেদক:
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার সদ্য বদলিকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তথ্য গোপনের মতো একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক আল-আমিন।
রোববার (২ আগস্ট) নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়ার কাছে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
### ৭ শতাংশ কমিশন ও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার বাণিজ্য:
অভিযোগে ঠিকাদার প্রকৌশলী আল-আমিন জানান, ২০২৫ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে কাজটি সম্পন্ন করেন। কিন্তু প্রায় ৭৮ লাখ টাকার উক্ত কাজের বিল উত্তোলনের সময় তৎকালীন ইউএনও এম এ মুহাইমিন আল জিহান সরাসরি ৭ শতাংশ কমিশন দাবি করে বসেন।
আল-আমিনের ভাষ্যমতে, কমিশনের টাকা না দিয়ে বিল উত্তোলনের জন্য তিনি প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন; ইউএনও নিজের দাবিতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে পৌরসভার হিসাবরক্ষক অপুর মাধ্যমে নগদ ৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে প্রদান করতে হয়। উক্ত ঘুষ লেনদেনের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। তবে এতকিছুর পরও অদৃশ্য শক্তির বলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
### “মনোহরদী পরিণত হয়েছিল জাহেলিয়াতের যুগে”:
সংবাদকর্মীদের আল-আমিন বলেন, “একই সময়ে উপজেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে এই ইউএনও মনোহরদীতে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া গড়ে তুলেছিলেন। উনি দায়িত্ব পালনকালে পুরো মনোহরদী যেন আইয়ামে জাহেলিয়া বা অন্ধকার যুগে পরিণত হয়েছিল। নির্ধারিত কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে গিয়ে আমি নিজে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছি।”
### তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন ও কালক্ষেপণ:
উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার গত দুই বছরের কোটি কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব জানতে চেয়ে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আবেদন করেছিলেন আল-আমিন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও দপ্তর থেকে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসকের কাছে ১ম আপিল এবং ঢাকার তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হলেও অদ্যাবধি তথ্য মেলেনি বলে তিনি জানান।
### উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাস:
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ইউএনও মুহাইমিন আল জিহানের বক্তব্য নিতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন জানিয়েছেন অভিযোগকারী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।