
গুপ্তচর প্রতিবেদক :
নরসিংদী জেলার গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাকিবুল হকের বিরুদ্ধে ৯৬ কেজি গাঁজা ধ্বংস না করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কোর্ট পরিদর্শক মোঃ জাকির হোসেনকে দায়ী করা হয়েছে, যা নিয়ে তিনি নিজেকে বলির পাঁঠা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি শিবপুর থেকে ডিবি পুলিশের এস আই আব্দুল গাফফার ৯৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি এই মাদক নরসিংদী কোর্টের মালখানায় জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, তা জমা দেওয়া হয়নি। মালখানার ইনচার্জ মোঃ শাহিনুর রহমান জানান, ডিবি ওসি তাকে মাদক জমা না নিতে নির্দেশ দেন এবং ভয় দেখিয়ে বলেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি মাদক ধ্বংস করার কথা থাকলেও, তা না করে মাধবদীর মাদক ব্যবসায়ী মায়ার কাছে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, ডিবি ওসি এর আগেও ১২০ কেজি গাঁজা ও ১৩০ বোতল ফেনসিডিল মালখানায় জমা দেননি বলে জানা যায়। ডিবির এই ওসি পূর্বে গোপালগঞ্জের ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং আওয়ামী লীগের পতিত স্বৈরাচার হাসিনার খুব আস্তাভাজন ছিলেন। শুধু তাই নয় কোর্টের যেকোনো নিলামে তার পছন্দের লোকদের পাইয়ে দেওয়ার জন্য হস্তক্ষেপ করতেন তিনি।
কোর্ট পরিদর্শক মোঃ জাকির হোসেন জানান, চাকরিজীবনের শেষ বয়সে এ ধরনের অপমান কল্পনাও করেননি। তিনি সব সময় সৎ থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কখনো পোষাকে কলঙ্ক লাগতে দেননি। সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে ডিবি ওসি এবং বিচারক সরাসরি জড়িত, সেখানে কোর্ট পরিদর্শক জাকির হোসেনকে কেন এই ঘটনায় টানা হচ্ছে! তিনি মালখানায় মাল জমা পায়নি তাহলে তিনি কিভাবে দোষী? তিনি মাল বুঝে পেয়েছেন এ ধরনের কোন লিখিত কোথাও তিনি দেননি। প্রশ্ন উঠেছে মাল যদি বিক্রি করান বিচারক নিজে, সেখানে কোর্ট পরিদর্শক কি তার বিরুদ্ধে যেতে পারবেন? তার বিরুদ্ধে গিয়ে কোর্টে কি তার চাকুরি থাকবে? যেখানে তিনি সারাক্ষণ বিচারকদের মামলা মোকদ্দমা এবং নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে থাকেন, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জলে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করার মত নয় কি? তাছাড়া কোনরকম তদন্ত না করে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এরকম বলির পাঁঠা বানানো কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?
এ বিষয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা থেকে আশা করা যায় যে, জাকির হোসেন দায়িত্বে বহাল থেকে নরসিংদীবাসীকে সেবা দিতে পারবেন।
Leave a Reply