রায়পুরা প্রতিনিধি :
নরসিংদীর রায়পুরায় আলোচিত শিশু মোস্তাকিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মাসুম মিয়া ওরফে চায়নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ বালুচর গ্রামে হানিফ মাষ্টার গ্রুপ ও এরশাদ গ্রুপের লোকজনের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় একইদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি সায়দাবাদ পশ্চিমপাড়া এলাকায় বাদীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় মালেক মিয়ার নির্দেশে মাসুম মিয়া ওরফে চায়না তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বাদীর ১৪ বছর বয়সী ছেলে মোস্তাকিমের বুকের বাম পাশে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি রায়পুরা থানায় ১৪৩/১৪৮/৪৪৭/৩০২/১১৪/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ শফিউল্লাহ শিকদারের ওপর।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুকের নির্দেশনায় এবং রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুরের তত্ত্বাবধানে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মজিবর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গত ১৫ মার্চ দুপুর আড়াইটার দিকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মাসুম মিয়া ওরফে চায়নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শফিকুল ইসলাম সুমন *** উপদেষ্টা: নাছরিন রিমা স্মৃতি
কার্যালয় : উপজেলা মোড়, নরসিংদী। মোবাইল: ০১৯০৬০৬০০৫৭, ই-মেইল: msi873098@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক গুপ্তচর. All rights reserved.