
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র রমজান মাসেও নরসিংদীতে থামছে না গণধর্ষণ, হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যুর মিছিল। একের পর এক ভয়াবহ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলায়। কলা ও কাপড়ের জন্য পরিচিত নরসিংদী এখন যেন অপরাধের কালো ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মাধবদীতে সৎ বাবা আশরাফ আলীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয় ১৫ বছর বয়সী কিশোরী আমেনা। জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে ওই কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে সালিশে বিচার না পেয়ে এবং এলাকা ছাড়ার চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এর ৯ দিন পর মাধবদী এলাকায় চার সন্তানের জননী এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হন। ভুক্তভোগীর স্বামী প্রবাসে থাকেন এবং তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই এখনো আইনের আওতায় আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৫ মার্চ নরসিংদী সদর উপজেলার কুরেরপাড় এলাকার বাসিন্দা মুস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মাহবুব (৩৭), পেশায় প্রাইভেটকার চালক, তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাঘহাটা খিদিরপুর মাঠ থেকে মরদেহটি পাওয়া যায়। একই দিনে রায়পুরা থানার চরমরজাল গ্রামের প্রবাসী শুক্কুর আলীর ৬ বছরের ছেলে আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের পর প্রতিবেশী ইদ্রিস মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
১৭ মার্চ পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকায় একই গ্রামের দুই বন্ধু—বাটপাড়া এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে মুসান্না গালিব মিম (২৮) এবং বশির উদ্দিনের ছেলে শেখ শরিফ(২৭)এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একের পর এক এসব ঘটনার অধিকাংশেরই রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অনেক ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এসব বিষয়ে নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( ক্রাইম এন্ড অবস্) সুজন চন্দ্র সরকার জানান, শিশু হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঝুলন্ত লাশের পোস্টমর্টেম করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। অন্য ঘটনাগুলোতে আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “নরসিংদীতে আগে কখনো এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। এখন প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো লাশের খবর পাওয়া যাচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তার না করা হলে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।
Leave a Reply