নিজস্ব প্রতিবেদক :
নরসিংদীর মনোহরদীতে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হামলা, শ্লীলতাহানি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী উদ্যোক্তা।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন হাররদিয়া গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল জব্বার এবং অর্জুনচর গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে মুক্তার উদ্দিন তালুকদার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মনোহরদী সি.আর. মামলা নং-৪১৫/২০২৬ হিসেবে দায়ের করা হয়েছে।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার রাতেই আনুমানিক ১২টার দিকে বাদীর ভাই সোহেল মিয়াকে লেবুতলা ইউনিয়নের গাংকুলকান্দি গ্রামের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় দোলনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি। পরে তাকে দোলনের গোপন আস্তানা মনোহরদী হরিনারায়নপুরে হাত-পা বেঁধে রেখে, পপি আক্তারকে সেখানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার না করলে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়াসহ হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সূত্রটি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আব্দুল জব্বার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাং লিডার ও বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার কথাও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা দোলনের প্রভাব ও আশ্রয়ে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে। এ ঘটনায় জব্বারের নেতৃত্বে রাকিব, চাঁন্দা বকুল, সোহাগসহ ২৫ থেকে ৩০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি সহযোগিতা করেছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মনোহরদীতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। বেলাবো-মনোহরদী এলাকার সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দোলনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই ভয় পান। সামান্য একটি মামলা মোকাবেলা করারও সৎ সাহস নেই তার। কারণ সে অপরাধী। এজন্যই মামলা প্রত্যাহার করাতে সে পাগল হয়ে গেছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মামলার বাদী পপি আক্তারের মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে তার নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এলাকার সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাদীপক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।