নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে নৌভ্রমণের আয়োজন করার অভিযোগ উঠেছে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার ফয়সাল আহমেদ (সোহেলের) বিরুদ্ধে। গত ১৪ আগস্ট রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হুগলাকান্দি গ্রামের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি নৌভ্রমণে অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ফয়সাল আহমেদ বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত। এর আগে তিনি নরসিংদী জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসার হিসেবে প্রায় পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় চলে যান। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সাবেক রায়পুরা আসনের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য রাজউদ্দিন আহমেদ রাজুর সুপারিশে তিনি চাকরি পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ফয়সাল আহমেদ আওয়ামী লীগের একজন অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নেই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ওই নৌভ্রমণের আয়োজন করা হয়। ভ্রমণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির ছবি রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ওই নৌভ্রমণের কিছুদিন পর রায়পুরায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে নৌভ্রমণ এবং পরবর্তী সংঘর্ষের মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে এমন আয়োজন কতটা বিধিসম্মত ও দায়িত্বশীল আচরণ—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিচিতি বহনকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে ফয়সাল আহমেদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গ্রামের সবাইকে নিয়ে গিয়েছি।” তবে নৌভ্রমণটি কী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল এবং এর ব্যয় কে বহন করেছেন—এসব বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি এটি নিছক সামাজিক ভ্রমণ হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের এত সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণ কী এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নিজে এ আয়োজনের সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন?

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি সামনে রেখে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।