নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর আদিয়াবাদে অগ্রণী ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বদলির মুখে পড়েছিলেন হাবিব আজমী চৌধুরী— এমন অভিযোগ রয়েছে। তিনি নরসিংদী সদরে ঘোড়াদিয়া গ্রামের মৃত: আবু তাহের চৌধুরীর সন্তান।

হাবিব আজমী চৌধুরী বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে মুন্সিগঞ্জে কর্মরত। তিনি স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের নরসিংদী অঞ্চলের সভাপতি ছিলেন বলেও জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মাজীদ মাহমুদ হুমায়ুনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ ভাবে উপার্জিত অর্থে নরসিংদী পৌরসভার ব্যাংক কলোনি এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ জমির ওপর তিনি ছয়তলা একটি ভবন নির্মাণ করেছেন। নরসিংদী পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে তিনি এই ভবন নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পলাশেও রয়েছে তিনতলা একটি ভবন। জমিসহ এসব সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে।

অর্থ কেলেঙ্কারির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেঙ্কারির গুরুতর অভিযোগ। স্ত্রী,সন্তান রেখে পরকীয়া করে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তার বর্তমান স্ত্রীর নাম মাহমুদা আরেফিন। মনোহরদী উপজেলার চুলা গ্রামের ওসমান গনির মেয়ে তিনি। তাকে নিয়েই নরসিংদীতে বর্তমানে বসবাস করছেন।
এখন প্রশ্ন—এ বিপুল সম্পদের অর্থের উৎস কী?
বিষয়টি জানতে হাবিব আজমী চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার নামে এবং তার স্ত্রীর নামে ব্যাংক লোন রয়েছে । কিন্তু ব্যাংক লোনের কোন কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

নরসিংদীর সচেতন মানুষের প্রত্যাশা—সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক।