নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়ির উঠানে হামলা চালিয়ে এক যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং তার গলায় থাকা প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. আল আমিন মিয়া (৩৭) ও মো. কিবরিয়া (৫৫) নামে দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নেয়ামতপুর এলাকায় বাদী শামীমের বসতবাড়ির উঠানে এ ঘটনা ঘটে। মামলার বাদী শামীম (৫০) ওই এলাকার মৃত এরশাদ আলীর ছেলে। মামলায় তিনি নিজেকে হামলায় আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের ঘটনায় দায়ের করা একটি অভিযোগে শামীম সাক্ষী হওয়ায় তার ওপর আসামিদের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির উঠানে শামীম ও তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে দেখতে পেয়ে আসামিরা তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় কিবরিয়ার নির্দেশে আল আমিন হাতে থাকা হকিস্টিক দিয়ে শামীমের মুখে একাধিক আঘাত করেন। এতে তার মুখে গুরুতর জখম এবং ওপরের মাড়ির বাম পাশের সামনের দুটি দাঁত পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কিবরিয়া শামীমের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং নখ দিয়ে আঁচড় দিয়ে গলা ও কানের নিচে জখম করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে রাবেয়া খাতুনের ওপরও হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, আল আমিন তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করেন এবং গলায় থাকা দুই ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেন। অন্যদিকে কিবরিয়া তার চুল ধরে টান দিলে একগুচ্ছ চুল ছিঁড়ে যায় এবং তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত শামীম ও রাবেয়া খাতুনকে উদ্ধার করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় মামলা করলে শামীম ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন।
পরে শামীমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে এবং রাবেয়া খাতুনকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মামলার সঙ্গে চিকিৎসার কাগজপত্র ও জখমের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং-৬৮৩/২০২৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।