নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী:
নরসিংদীর পাঁচদোনা-২ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী রাবেয়া আক্তারের বিরুদ্ধে সরকারি ছুটি না নিয়েই টানা প্রায় ১৫ দিন ধরে থাইল্যান্ডে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্বে থাকা রাবেয়া আক্তার বিদেশ ভ্রমণের আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও ছুটি নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। অথচ তিনি বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য সহকারীরা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের দায়িত্বের মধ্যে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কার্যক্রমে সহযোগিতা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কার্যক্রম, রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা অন্যতম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাতেও কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক কার্যক্রমে স্বাস্থ্য সহকারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সরকারি চাকরিতে স্বাস্থ্য সহকারী পদটি ১৬তম গ্রেডের পদ হিসেবে প্রচলিত। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী এ গ্রেডের মূল বেতন ৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকা। এর সঙ্গে বিধি অনুযায়ী অন্যান্য ভাতা যুক্ত হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে আরও জানা যায়, রাবেয়া আক্তার টেকনিশিয়ান আরিফুলের অনুমতি নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন—এমন দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু নরসিংদী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ইনচার্জ হেলেনা বেগম বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে টেকনিশিয়ান আরিফুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, রাবেয়া আক্তার ছুটি নিয়েই বিদেশে গেছেন। তবে ছুটির অনুমোদনপত্র বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখতে চাইলে আরিফুল জানান, “ছুটির কাগজ আমার কাছে নেই।”
এতে প্রশ্ন উঠেছে—রাবেয়া আক্তার ছুটি নিয়েছেন বলে আরিফুল কীভাবে নিশ্চিত হলেন এবং ছুটির আবেদন ও অনুমোদনের নথি কোথায় রয়েছে? সরকারি কর্মচারীর বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও ছুটির বিষয়টি যথাযথ নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ইনচার্জ হেলেনা বেগমের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মোঃ বুলবুল কবির বলেন, “আমি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগটি সত্য হলে সরকারি দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি যথাযথ ছুটি ও বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—তা তদন্তে স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে রাবেয়া আক্তারের ছুটির আবেদন, অনুমোদনপত্র, বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে রাবেয়া আক্তারের বক্তব্য নিতে গেলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।।