
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদী জেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ইয়াবার বিস্তার। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় সহজলভ্য হয়ে উঠেছে এই মাদকদ্রব্য। এর প্রভাব পড়ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও—বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। গ্রামে আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে চুরি, শহরে চুরিও ছিনতাই দুইটাই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে বাসা-বাড়ি ও দোকানে চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। শহরে চুরেরা এসি খুলে নিয়ে যাচ্ছে। দোকানে করছে দুর্ধর্ষ চুরি। বিশেষ করে শহরের অলিগলি, বাজার এলাকা ও নির্জন সড়কগুলোতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই বলছেন, ইয়াবাসক্ত তরুণদের একটি অংশ এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সহজলভ্য কিন্তু ব্যয়বহুল এই নেশায় আসক্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ। আর এই নেশার টাকা জোগাড় করতেই জড়িয়ে পড়ছে চুরিও ছিনতাইয়ে।একবার এতে আসক্ত হলে চিকিৎসা ছাড়া বের হওয়া কঠিন। কিন্তু মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই এই চিকিৎসা নিতে পারছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, “আগে মাঝেমধ্যে চুরি হতো, এখন প্রায়ই শুনছি কোথাও না কোথাও চুরি বা ছিনতাই হচ্ছে। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মতে, অভিযান থাকলেও মাদকের মূল সরবরাহ বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ অধিক মাদক উদ্ধার করে কম মাদক দিয়ে চালান দিচ্ছে আসামিদের। বাকি মাদক আবার বিক্রি করে দিচ্ছে অন্য কোন ব্যবসায়ীর কাছে। এই ধরনের চোর -পুলিশ খেলায় “যেই লাউ সেই কদু” অবস্থা। আবার সরকারদলীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতারা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সেল্টার দিচ্ছেন।ফলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
সচেতন মহল মনে করছে, শুধু অভিযান নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অভিভাবকদেরও সন্তানদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই মাদক নির্মূল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply