
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতার অভাব এবং পছন্দের শিক্ষকদের প্রাধান্য দেওয়ার কারণে পুরো কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট স্কুল থেকে একাধিক শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও যোগ্য ও দক্ষ অনেক শিক্ষককে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পোড়াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুইজন সহকারী শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন, যার মধ্যে একজন নিজেকে শিক্ষক নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। এছাড়া বাজনাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুইজন এবং ভাটেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষক দায়িত্বে রয়েছেন।
এ ধরনের বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব হিসেবে দেখছেন।
পরীক্ষার প্রথম দিনেই চরম বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা যায়। একাধিক শিক্ষার্থী হাজিরা শিটে স্বাক্ষর করতে পারেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে, বিতর্কিত শিক্ষক নেতা হিসেবে পরিচিত এবং শিক্ষা অফিসারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নাসির উদ্দীনকে কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়াও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসার জুলেখা শারমিনের যোগদানের পর থেকেই তিনজন শিক্ষক মৌখিকভাবে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও) দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন— পোড়াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোরাদ মিয়া, সররাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাউছার মিয়া এবং আব্দুল্লানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (সদ্য প্রয়াত) আতাউল রহমান।
যেখানে উপজেলায় তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন, সেখানে অতিরিক্তভাবে এ ধরনের দায়িত্ব প্রদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও অবনতি ঘটতে পারে।
(চলবে…)
Leave a Reply