নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় একই ঘটনায় আটক তিনজনের মধ্যে একজনকে ভিন্ন ধারার মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট যুবকের স্বজনরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট মনোহরদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সল্লাবাদ গ্রাম থেকে গাঁজা সেবনের অভিযোগে আশিক, রিপন ও জুলহাস নামে তিনজনকে আটক করে মনোহরদী থানা পুলিশ। পরদিন ৩ আগস্ট রিপন ও জুলহাসকে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় মামলা নং-১০৬/২৬-এ আদালতে পাঠানো হয়।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, একই ঘটনায় আটক হওয়া আশিককে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৫(১)/২৬ ধারায় মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে, যা তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন।
আশিকের পরিবারের দাবি, তার বাবা মনোহরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার জন্য যাতায়াতে আশিকই ছিলেন তার একমাত্র ভরসা। আশিককে গ্রেপ্তারের পর এসআই এমদাদ তাকে মারধর করেন এবং এতে তিনি রক্তাক্ত হন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
পরিবারের আরও দাবি, তাদের অপর এক ছেলে বড় ছেলে আরিফও বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া আশিক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে, আশিকের বাবার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান সরকার দুলনের ব্যক্তিগত বিরোধ থাকায় প্রভাব খাটিয়ে তার দুই সন্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য দুই আসামীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত লঘু ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওই সূত্র।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা এবং স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দুলন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার সঙ্গে তাদের কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই।”
ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।