নিজস্ব প্রতিবেদক :
একের পর এক নেতিবাচক ঘটনার কারণে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বেড়ে চলেছে। এবার এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী উদ্যোক্তা।
নরসিংদীর মনোহরদীতে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হামলা, শ্লীলতাহানি, নগদ টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী উদ্যোক্তা। মামলার অপর দুই আসামি হলেন হাররদিয়া গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল জব্বার এবং অর্জুনচর গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে মুক্তার উদ্দিন তালুকদার।
স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল জব্বার এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলাও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা দোলন তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন।
মামলাটি নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মনোহরদী সি.আর. মামলা নং-৪১৫/২০২৬ হিসেবে দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী পপি আক্তার, যিনি মনোহরদী বাজারের শাহীন প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত “তানিয়া বিউটি পার্লার” পরিচালনা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদিনীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমিনুর রহমান সরকার দোলনের নির্দেশে অপর দুই আসামি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করে আহত করেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত দোলন তার কাপড়চোপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটান। এছাড়া তার ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ড্রয়ারে থাকা ৫২ হাজার টাকা এবং তার গলায় থাকা প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাকে কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বাদী আদালতে উল্লেখ করেন, চিকিৎসা গ্রহণ এবং থানায় মামলা নিতে গড়িমসির কারণে আদালতের শরণাপন্ন হতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি পিবিআই নরসিংদীকে দিয়ে তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। জানা গেছে, মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে প্রদান করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পপি আক্তার আশা প্রকাশ করে বলেন, মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পিবিআই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজের ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে তিনি জানান।